DNA অনুলিপন এবং টেস্টের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায়

 DNA অনুলিপন প্রক্রিয়ায়: 



এই প্রক্রিয়ায় একটি DNAঅণু থেকে আরেকটি নতুন DNA অণু তৈরি হয় বা সংশ্লেষিত হয়।

DNA অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতিতে অনুলিপিত হয়। এই পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙ্গে গিয়ে DNA সূত্র দুটি আলাদা হয়ে যায়। তখন কোষের ভিতর ভাসমান নিওক্লিওটাইডগুলাে থেকে A এর সাথে T, T এর সাথে A, C এর সাথে G এবং G এর সাথে C যুক্ত হয়ে সূএদুটি তার পরিপূরক নতুন সূত্র তৈরি করে। DNA এর দুটি সূত্রের ভিতর একটি পুরাতন সূত্র রয়ে যায়। তার সাথে একটি নতুন সূত্র যুক্ত হয়ে পরিপূর্ণ DNA অণুর সৃষ্টি হয়। অর্ধেক পুরাতন এবং অর্ধেক নতুন সূত্র থাকায় একে অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতি বলে।

1956 সালে Watson ও Crick এ ধরনের DNA অনুলিপন প্রক্রিয়ার প্রস্তাব করেন।



DNA টেস্টের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া:



প্রচলিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীনির্ভর বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি আজ বাংলাদেশে সুবিচার পাওয়ার এক নতুন উপায় হচ্ছে এই

ডিএনএ টেস্ট। ডিএনএ টেস্টের বিজ্ঞানভিত্তিক এক ব্যবহারিক পদ্ধতিকে বলা হয় ডিএনএ ফিঙ্গার প্রিন্টিং। এ ধরনের প্রক্রিয়াগুলাের ডিএনএ টাইপিং, ডিএনএ টেস্টিং ইত্যাদি নামও প্রচলিত আছে। ডিএনএ টেস্ট সুসম্পন্ন করার জন্য প্রথম প্রয়ােজন জৈবিক নমুনা। ব্যক্তির হাড়, দাঁত, চুল, রক্ত, লালা, বীর্য বা টিস্যু ইত্যাদি মূল্যবান জৈবিক নমুনা হতে পারে। অপরাধস্থল কিংবা অপরাধের শিকার এমন ব্যক্তির কাছ থেকে সংগ্রহ করা জৈবিক নমুনার ডিএনএ নকশাকে সন্দেহভাজনের কাছ থেকে নেওয়া রক্ত বা জৈবিক নমুনার ডিএনএ নকশার সাথে তুলনা করা হয়। এই পদ্ধতিতে প্রথমে নমুনা থেকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ডিএনএ আলাদা করে নিতে হয় এবং একাধিক সীমাবদ্ধ এনজাইম দিয়ে ডিএনএগুলাে কেটে ছােট ছােট টুকরা করা হয়। তারপর এক বিশেষ পদ্ধতিতে (ইলেকট্রোফোরেসিস দ্বারা এগারােজ বা পলিএক্সিলমাইড জেল) ডিএনএ টুকরাগুলাে তাদের দৈর্ঘ্য অনুসারে বিভিন্ন ব্যান্ড আকারে আলাদা করা হয়। এরপর এক ধরনের বিশেষ নাইট্রোসেলুলােজ কাগজে রেডিও অ্যাকটিভ আইসােটোপ ডিএনএ প্রােরের সাথে হাইরিডাইজ করে এক্স-রে ফিল্মের উপর রেখে অটোরেডিওগ্রাফ পদ্ধতিতে দৃশ্যমান ব্যান্ডের সারিগুলাে নির্ণয় করা হয় এবং অপরাধস্থল থেকে প্রাপ্ত নমুনার সাথে সন্দেহভাজন নমুনার মিল ও অমিল চিহ্নিত করে তুলনা করা হয়। এই পদ্ধতিটিকে ডিএনএ ফিঙ্গার প্রিন্টিং বলা হয়। বর্তমানে পলিমারেজ চেইন বিক্রিয়া বা পিসিআর পদ্ধতিতে আরও নিপুণভাবে অল্প নমনা ব্যবহার করে নির্ভুলভাবে শনাক্তকরণ করা সম্ভব হচ্ছে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url